দেশের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিষ্ঠান—অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর চিফ প্রসিকিউটর দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে তদন্তও শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে একটি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলার নথি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে উপস্থাপন না করার অভিযোগে এক অফিস সহায়ককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বিচার বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মামলার আসামির পক্ষ থেকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি এবং সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা। এসব বিষয় তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় রাখতে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান বিচার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

