ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প এক যুগ পেরিয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ২০১৪ সালে অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ। অথচ বাস্তব কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশে আটকে রয়েছে।
যানজট নিরসন এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনে প্রকল্পটি শুরু হয়। শুরুতে চার বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়নি। পরে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয় এবং সর্বশেষ মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এখন আবার ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৭৮ কোটি টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে তা বাড়িয়ে ৬৫৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ব্যয় বাড়ার বড় কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতি, নতুন করে দরপত্র আহ্বান এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, বিদেশি ঠিকাদারের কাজ ছেড়ে চলে যাওয়া এবং নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে চীনা ঠিকাদার নির্ধারিত কাজ শেষ না করেই সরে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের গতি কমে যায়।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মতে, প্রাথমিক দরপত্রে বিদেশি সরঞ্জামের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহ হারায়। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে, যা সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়িয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের পাশাপাশি একাধিক স্টেশন ভবন, সেতু, লেভেল ক্রসিং এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে ধীরগতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে। কমিটির মতে, প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় এবং দায় নির্ধারণ করা জরুরি। কেন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পে শুধু সময় বাড়ানো নয়, বরং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি মূলত দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং নজরদারির ঘাটতির ফল। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে একই সমস্যা বারবার ঘটতে থাকবে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও তদারকির দুর্বলতা মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্পটি এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্যয় আরও বাড়বে এবং প্রকল্পের সুফল পেতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

