কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বহু বছর ধরে অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডে নতুন অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
তদন্ত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থার একটি দল। পরে তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন বুধবার তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তনুর পোশাক থেকে ২০১৭ সালে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের জৈবিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বলে আগেই জানায় তদন্ত সংস্থা। তবে তখন কোনো সন্দেহভাজনের সঙ্গে সেই ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়নি। এবারের ঘটনায় প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট সন্দেহভাজনের সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, হাফিজুর রহমান ছাড়াও একই ঘটনায় আরও দুই সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি আদালত দিয়েছিল। তারা হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত দুই সদস্য, যারা বর্তমানে অবসরে আছেন। তাদের ক্ষেত্রেও নমুনা মিলিয়ে দেখার প্রস্তুতি চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনএ রিপোর্ট এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিপোর্ট মিললে তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে, আর না মিললে মামলার অগ্রগতিতে ভিন্ন মূল্যায়ন আসবে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি নির্জন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের পর হত্যার সন্দেহ করা হলেও ময়নাতদন্তে স্পষ্ট কোনো কারণ নির্ধারণ করা যায়নি।
পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব একাধিক সংস্থার হাত বদল হলেও দীর্ঘ সময় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের জৈবিক নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশের পরও তা ব্যক্তিভিত্তিক মিলের পর্যায়ে যেতে পারেনি।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে অবসরে যান। তনু হত্যার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনএ মিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য একত্রিত করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের এই হত্যাকাণ্ডে নতুন এই অগ্রগতি পরিবার ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

