রাজধানী ঢাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকি একেবারে নেই—এমনটি বলা যায় না। বিশেষ করে দেশের পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মানুষের যাতায়াতের কারণে এই রোগ ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই কম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
ম্যালেরিয়া মূলত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় এই রোগ বেশি দেখা যায়, কারণ সেখানে মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে—যেমন স্থির পানি, বনাঞ্চল ও আর্দ্রতা। এসব এলাকা থেকে কেউ সংক্রমিত হয়ে ঢাকায় এলে সীমিত পরিসরে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ জ্বরের মতো হওয়ায় সহজে ধরা পড়ে না। হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর শুরু হওয়া, পরে প্রচুর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যাওয়া—এটি ম্যালেরিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও বমি ভাব থাকতে পারে। জটিল ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা, শ্বাসকষ্ট বা অচেতন হওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সমস্যা হলো—এই লক্ষণগুলো অনেক সময় ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়ে। বিশেষ করে যারা সম্প্রতি ম্যালেরিয়া-প্রবণ এলাকায় গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার কামড় এড়ানো। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার, সম্ভব হলে কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার করা, বাসার আশপাশে পানি জমে থাকতে না দেওয়া এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করাও দরকার।
যদি কারও মধ্যে ম্যালেরিয়ার উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো শনাক্ত হলে এই রোগ পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ঢাকায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি কম হলেও একেবারে নেই না। তাই ভ্রমণের ইতিহাস, পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়গুলো মাথায় রেখে সতর্ক থাকলেই এই রোগ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

