আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
আদালতকে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, মামলাটির তদন্ত কাজ এখন শেষ ধাপে রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। তার এই বক্তব্যের পর আদালত তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দেন। এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ছয় মাস সময় দিয়েছিল। ওই সময় আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এটিই শেষ সুযোগ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। তারও আগে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল একই মামলায় তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
মামলাটির তদন্তে গতি আনতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের নির্দেশে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয়—এমন একজন পুলিশ প্রতিনিধি, সিআইডি এবং র্যাবের একজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে টাস্কফোর্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করে।
এরও আগে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয় এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে র্যাবকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি সম্পূরক আবেদনও করা হয়, যা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে নতুন আইনজীবী হিসেবে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড এখনো বিচার ও তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছে।

