দেশে বিদ্যুতের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং আবারও বেড়ে গেছে। জ্বালানি সংকট, বকেয়া বিল এবং একাধিক কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম হচ্ছে।
সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা সূত্রে জানা যায়, দেশে মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি তৈরি হয়ে দৈনিক কয়েক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় অনেক কেন্দ্র অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করতে পারছে। একইভাবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বকেয়া বিলের কারণে পুরোপুরি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে। চারটি প্রধান কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের মধ্যে একাধিক ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কয়লা আমদানি ও সরবরাহ ঘাটতিও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রগুলো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
অন্যদিকে, আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহেও সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। একটি বড় কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় আঞ্চলিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি পরিকল্পনার ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণে দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করছে। তারা বলছেন, উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সংকট এড়ানো সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কিছু কেন্দ্র মেরামতের কাজ চলছে এবং কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বৃদ্ধির সময় লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

