মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানিসংকটের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলকে নিয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই কমিটি গঠনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে সংসদে।
আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সংসদের অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। তিনি বলেন, “বর্তমান জ্বালানিসংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। এটি মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগে এমন কমিটি গঠনের ঘটনা খুবই বিরল। অতীতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় দুই পক্ষের ঐকমত্য দেখা গিয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগও সেই ধরনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিরোধী দলের প্রস্তাব ও মতামত কমিটির মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছাবে এবং তা বাস্তবসম্মত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল মোহাম্মদ টুকুকে। সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
অন্যদিকে বিরোধী দলের পাঁচ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম, ঢাকা-১৬ আসনের আব্দুল বাতেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাত এবং সিলেট-৫ আসনের মোহাম্মদ আবুল হাসানকে।
সংসদে এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “জাতীয় সমস্যার সমাধানে সংসদকে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানিসংকটের মতো সংকটে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হলে দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের পথ সহজ হতে পারে। ৩০ দিনের মধ্যে এই কমিটির সুপারিশ দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

