রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণ হলে আশপাশের এলাকায় যানজট কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। এজন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে, যা প্রকল্পটি অনুমোদনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এই ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৪৯ কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষে মত দেন অনেকেই। এর আগে ৬ এপ্রিলের বৈঠকেও প্রকল্পটি তালিকায় থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে আলোচনায় ওঠেনি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো এটি অনুমোদন ছাড়াই থেকে গেল।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের বড় অংশ আসবে দেশীয় উৎস থেকে, পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তাও রয়েছে। অল্প অংশ বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে যোগান দেওয়া হবে।
এদিন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে শহুরে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, প্রাণিসম্পদ খাতে রোগ নিয়ন্ত্রণ, ঢাকাসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন।
এছাড়া রেলপথ খাতে উন্নয়ন ও নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন, সংশোধিত এবং মেয়াদ বাড়ানো—তিন ধরনের উদ্যোগই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সচিবালয়ের নতুন ভবন প্রকল্পটি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই শেষে ভবিষ্যতে পুনরায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
সিভি/কেএইচ

