দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের মধ্যেই বজ্রপাতের ভয়াবহতায় একদিনে সাত জেলায় ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পঞ্চগড়, জামালপুর, নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ছয়টি জেলাতেই মারা গেছেন ১১ জন, ফলে পুরো অঞ্চলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধায়। জেলার সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতের সময় মো. ফুয়াদ চৌধুরী (৩৩), মো. রাফি চৌধুরী (১১) ও মো. মিজানুর রহমান (২০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হন। অপরদিকে সাঘাটায় নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ ঝড়-বৃষ্টির সময় বাড়ির বাইরে থাকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
সিরাজগঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষক ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল হামিদ (৫০) এবং রায়গঞ্জের ধানগড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ধান গোছানোর সময় হাসান শেখ (২৫) নিহত হন।
জামালপুরে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ ও এক শ্রমিক। মেলান্দহে রান্নাঘরে কাজ করার সময় মর্জিনা বেগম (২২) বজ্রপাতে মারা যান। একই দিনে সদর উপজেলার চরযথার্থপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে হাসমত আলী হাসু (৪৫) নিহত হন। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক নারী ও এক কৃষক। লাবণী আক্তার (৩৫) মাঠ থেকে ঘাস কেটে ফেরার পথে এবং ইলিয়াস আলী (৩৭) নিজের ফসলি জমি দেখতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।
অন্যদিকে বগুড়ার গাবতলীতে ছাগল আনতে গিয়ে সুমন হোসেন (৩৫), পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চা-বাগানে কাজ করার সময় সোহরাওয়ার্দী (৪০) এবং নাটোরের সিংড়ায় ধান কেটে ফেরার পথে সম্রাট হোসেন (২৬) বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।
হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

