জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে পণ্য পরিবহন খাতে। ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ট্রাক ভাড়া এক লাফে ট্রিপপ্রতি ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১৯ এপ্রিল থেকে সরকারের নির্ধারিত নতুন দামে জ্বালানি বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন দরে অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা। এই বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয়ের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে।
রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা গেছে, শুধু বড় ট্রাক নয়—ছোট যানবাহনেও ভাড়া বেড়েছে। পিকআপ ও ছোট কাভার্ড ভ্যানে প্রতি ট্রিপে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। আর দূরপাল্লার বড় ট্রাকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে এই বাড়তি খরচ ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
চালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু দাম বৃদ্ধি নয়, জ্বালানি সংগ্রহেও বাড়তি সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পাম্পে ঘুরে তেল নিতে হচ্ছে, যা যাত্রার সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে অপারেশনাল খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আগের ভাড়ায় পরিবহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা দাবি করছেন।
পরিবহন মালিকদের মতে, একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে এখন আগের তুলনায় বেশি সময় ও খরচ লাগছে। জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে, পাশাপাশি পথে বিলম্বের কারণে চালক-সহকারীর খরচও বাড়ছে। সব মিলিয়ে ব্যয় সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই।
বিশেষ করে ভারী পণ্য পরিবহনে এই চাপ আরও বেশি। ১৩ থেকে ১৪ টন পণ্য বহনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নতুন করে খরচের চাপে পড়ছেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি দামের এই বৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে, যা ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।

