নারীপ্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পর এবার গৃহিণীদের রান্নাবান্নার কষ্ট লাঘবে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘এলপিজি কার্ড’ নামে এই বিশেষ সুবিধা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা মূলত রান্নার জ্বালানি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়ে আসছে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনর্খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ নতুন কর্মসূচির কথা জানান।
‘এলপিজি কার্ড’ কী:
সরকারের ঘোষিত এই ‘এলপিজি কার্ড’ একটি বিশেষ সুবিধাভিত্তিক কার্ড ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত পরিবারের নারী সদস্যরা রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস কম দামে বা ভর্তুকি মূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। মূল উদ্দেশ্য হলো—রান্নার জ্বালানি সংগ্রহে নারী সদস্যদের আর্থিক চাপ ও শারীরিক কষ্ট কমানো।
কারা পাবেন সুবিধা: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অনুযায়ী, এই কার্ডের প্রাথমিক সুবিধাভোগী হবেন দেশের নারী সমাজ।
- গ্রামীণ নারী: যারা এখনো লাকড়ি, খড়কুটো বা কাঠ ব্যবহার করে রান্না করেন এবং ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন
- শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত নারী: যাদের জন্য বাজারদরের এলপিজি গ্যাস কেনা কঠিন হয়ে পড়ে
কী সুবিধা থাকতে পারে কার্ডে: পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস বা সিলিন্ডার সুবিধা
- বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে এলপিজি ক্রয়ের সুযোগ
- নির্ধারিত ডিলার বা পয়েন্ট থেকে কার্ড প্রদর্শন করে সহজে সিলিন্ডার সংগ্রহ বা রিফিলের ব্যবস্থা
কেন এই উদ্যোগ:
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “মা-বোনদের রান্নাবাড়ির ব্যাপারে খুব কষ্ট হয়। আমরা চাই রান্নাবান্নার জন্য যেন তাদের আর কষ্ট করতে না হয়— সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক বা শহরের মা-বোনই হোক।”
তিনি আরও বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা মিলবে, যা দিয়ে একজন নারী সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারবে। সেই সঙ্গে হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে নিজের রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবে।” প্রধানমন্ত্রীর মতে, একইভাবে ‘এলপিজি কার্ড’ নারীদের দৈনন্দিন জীবনের রান্নাবান্নার চাপ কমিয়ে জীবনকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।
সিভি/এম

