চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে মেয়রের দাবি, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ আরও কয়েক বছর বাকি; অন্যদিকে সরকারি নথি ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর দায়িত্বও শেষ হয়েছে।
২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সাধারণ সভার মাধ্যমে গঠিত এই পরিষদের মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে আদালতের রায়ে নির্বাচিত ঘোষিত হয়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নেওয়ার পর শাহাদাত হোসেন দাবি করছেন, তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আইনের বিধান অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ নির্ধারিত সময় শেষে শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে শপথ নিলেও অতিরিক্ত মেয়াদ পাওয়ার সুযোগ নেই।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। এমনকি মেয়াদকাল শেষ হওয়ায় শাহাদাত হোসেনকেই প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। আগে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত পুরোনো পরিষদ দায়িত্বে থাকার সুযোগ ছিল। তবে ২০১১ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান বাতিল করা হয়।
মেয়র শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য, আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি বৈধভাবে নির্বাচিত মেয়র এবং তাঁর মেয়াদ নির্ধারণও সেই রায়ের ভিত্তিতে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে আদালতের নতুন নির্দেশনা প্রয়োজন।
তবে নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকদের মতে, কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়া। সেই হিসাবে পরে রায়ে বিজয়ী ঘোষিত হলেও মেয়াদ বাড়ে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বও শেষ হয়েছে—এটাই বেশি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বলে তারা মনে করছেন। পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

