বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার পদে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি শিগগিরই ঢাকায় যোগদান করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মা। তাকে এরই মধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হলেও ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্ক স্পষ্ট ধারণা থাকায় তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।
ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের এমন পদে নিয়োগ করা হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটছে।
একটা সময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত ছিলেন দীনেশ। ২০১৬ সালের পর তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে শুরু করে। শেষমেষ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ।
দীনেশের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু অবশ্য আশির দশকে। সে সময় তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। পরে যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯০ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন প্রথমবার। এর পর তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। আবারও রাজ্যসভার সাংসদ পদ পান তিনি। প্রথমবার ভোটে লড়েন ২০০৯ সালে।
দ্বিতীয় দফায় ইউপিএ সরকারের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী ছিলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান। ২০১৯ সালে বারাকপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান তিনি। এরপর তৃণমূল তাকে রাজ্যসভায় পাঠায়। ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বছরের ৬ মার্চ যোগ দেন বিজেপিতে।

