দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন করে স্বস্তির খবর এসেছে। দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও অনিয়মিত সরবরাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বড় একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের দ্বিতীয় ইউনিট সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রায় ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু একটি ইউনিট যুক্ত হওয়া নয়—বরং একটি বড় ঘাটতি পূরণের সূচনা। ধীরে ধীরে এই ইউনিটের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে, ফলে সামগ্রিক সরবরাহ বাড়বে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
তবে এই উদ্যোগ এখানেই থেমে থাকছে না। ২৮ এপ্রিল থেকে আরও দুটি উৎস থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো এসএস পাওয়ার এবং অন্যটি আরএনপিএল। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে যাচ্ছে।
এই বাড়তি উৎপাদনের গুরুত্ব বোঝা যায় সাম্প্রতিক চাহিদার হিসাব থেকে। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। অথচ আদানি প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ছাড়া উৎপাদন ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৭১২ মেগাওয়াট—যা বড় একটি ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
এই বাস্তবতায় নতুন উৎপাদন যুক্ত হওয়া মানে সরাসরি ঘাটতি কমার সম্ভাবনা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। জ্বালানি সরবরাহ, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, নতুন এই বিদ্যুৎ সংযোজন দেশের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সূচনা মাত্র। এখন দেখার বিষয়, এই বাড়তি সরবরাহ কতটা স্থিতিশীলভাবে বজায় রাখা যায় এবং তা সত্যিই মানুষের জীবনে লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিভিডেস্ক/এইচএম

