ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হতে আরও সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুক্তি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এটি এখন ২০২৭ সালের শুরুর দিকে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, নতুন টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় একক আধিপত্য থাকছে না জাতীয় বিমান সংস্থার।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শুরু হবে ‘অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ বা ওরাট কার্যক্রম, যা ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এই প্রক্রিয়া শেষে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দ্রুত রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই যাত্রীসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে ধাপে ধাপে সতর্কতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো সমঝোতা বাকি রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রী প্রস্থান ফি, আগাম অর্থ প্রদান এবং আয় ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই কনসোর্টিয়ামে জাপানের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে, যারা টার্মিনালের পরিচালনা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবে।
প্রকল্পটি প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে, যার বড় অংশ ঋণ সহায়তা হিসেবে দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকেও উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করেছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী ও পাঁচ লাখ টন কার্গো সামাল দিতে পারে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে মোট সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীতে পৌঁছাবে।
এদিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বড় পরিবর্তন আসছে। এতদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এককভাবে এই সেবা দিয়ে এলেও তৃতীয় টার্মিনালে শুরু থেকেই আরেকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা হবে। এতে সেবার মান উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে বিমান সংস্থাটি দেশি-বিদেশি ৪০টির বেশি এয়ারলাইনের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে থাকে এবং এ খাত থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য আয় করে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব ও অদক্ষতা নিয়ে। নতুন ব্যবস্থায় এসব সমস্যার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচল খাতে বড় পরিবর্তন আসবে। তবে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ চুক্তি এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত না হলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

