দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সারা বছরই লোডশেডিং থাকলেও বিতরণ পর্যায়ে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ অপচয়ের চিত্র সামনে এসেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বিদ্যুতের সিস্টেম লসের কারণে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সরকারি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট উৎপাদিত ও বিক্রিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে গেছে। মোট ৯ হাজার ৫৪৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে ৮ হাজার ৮১৯ কোটি ইউনিট। ফলে ৭২৪ কোটির বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ সিস্টেম লস হিসেবে অপচয় হয়েছে। প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য হিসাব করলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে দক্ষতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে ঢাকার কিছু প্রতিষ্ঠান। উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তাদের সিস্টেম লস তুলনামূলক কম। বিপরীতে, যেসব অঞ্চলে পুরোনো লাইন ও দুর্বল অবকাঠামো রয়েছে, সেখানে অপচয়ের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
রাজধানীর বাইরে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ফলে সেসব অঞ্চলে সিস্টেম লস তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু কোম্পানিতে এই হার উল্লেখযোগ্য।
গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর ক্ষেত্রে সিস্টেম লস সবচেয়ে বেশি। বিস্তীর্ণ এলাকা, দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন এবং কম ঘনত্বের গ্রাহক থাকার কারণে এখানে বিদ্যুৎ অপচয় তুলনামূলক বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দূরবর্তী একটি গ্রাহকের জন্য দীর্ঘ লাইন বজায় রাখতে হয়, যা ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে এই ধরনের অপচয় কমাতে হলে বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার, লাইন আপগ্রেড এবং সঠিক তদারকি জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব মিলিয়ে, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

