রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ কমানো এবং সবুজায়নের ওপর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা শহরের পরিবেশ উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে দুই সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সবুজায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগানোর কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বিপুলসংখ্যক বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মেট্রোরেল ও উড়াল সড়কের ফাঁকা জায়গাগুলোতেও গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ধোঁয়াযুক্ত যানবাহন, নির্মাণকাজ ও ইটভাটাজনিত দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
নদী ও খালের দূষণ নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তরল বর্জ্য পরিশোধনের জন্য শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়ন হয়েছে। ঢাকার চারপাশের নদী ও খালের দূষণ উৎস চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। সব মিলিয়ে সমন্বিত এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করা হয়েছে সংসদে।

