দেশে প্রথমবার বেসরকারি উদ্যোগে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের বড় প্রকল্পটি প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে গিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না, ফলে সময়সীমা মিস করার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, “বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেম” নামে একটি কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে। এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা যুক্ত রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় ক্যাবল বসানোর বিশেষায়িত জাহাজ এখনো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে পারছে না।
প্রকল্পটির আওতায় সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সঙ্গে কক্সবাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ লাইন চালু হলে দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা।
কনসোর্টিয়াম সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের বড় অংশের কারিগরি কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমুদ্রতলের রুট নির্ধারণ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক অংশের সংযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থলভাগে অবকাঠামো নির্মাণও এগিয়ে চলছে। অর্থাৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।
কিন্তু অনুমোদন জটিলতার কারণে মূল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বঙ্গোপসাগরে ক্যাবল স্থাপনের জন্য বছরের নির্দিষ্ট সময়ই উপযোগী। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অন্তত এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ইতোমধ্যে প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি খরচ হয়ে গেছে। লাইসেন্স ফি, আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যয় এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এখন প্রকল্প স্থবির হয়ে থাকায় তারা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক মন্ত্রণালয় বলছে তারা প্রয়োজনীয় চিঠি পায়নি, আবার অন্যদিকে কনসোর্টিয়াম দাবি করছে তারা আগেই যোগাযোগ করেছে। এই প্রশাসনিক জটিলতাই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন এই বেসরকারি উদ্যোগ চালু হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ইন্টারনেটের খরচ কমতে পারে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, নতুন প্রতিযোগিতা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং তাদের আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নীতিগত দিক থেকেও বিষয়টি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে শুধু বিনিয়োগ নয়, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।

