দেশজুড়ে জরাজীর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক সংস্কারে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। সাম্প্রতিক চাহিদা অনুযায়ী, শুধু মেরামত ও উন্নয়ন কাজেই প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে, যা দেশের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত দুই মাসে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশপত্র বিশ্লেষণ করে এই ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। তবে বাস্তবে আগামী বাজেটে এই মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো বরাদ্দ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, অতীত সময়ে অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের কথা বলা হলেও অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের বহু সড়কের অবস্থা বর্তমানে নাজুক হয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ে জনগণের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিয়মিত উন্নয়ন দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সীমিত অর্থের কারণে সব প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই জরুরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে বাছাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংসদের সব দলের সদস্যদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় ও বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয় করা হবে।
নির্দিষ্ট একটি আসনের যানজট সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঘন ঘন রেল চলাচলের কারণে সড়ক পারাপারে জট সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ এ ওভারপাসের নকশা প্রণয়ন চলছে এবং কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অংশে প্রায় ১ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে, দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এ বাস্তবতায় ধাপে ধাপে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়নই এখন সরকারের প্রধান কৌশল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

