সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন সংবিধান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চর্চা হচ্ছে। সংসদের ভেতরেও সেই আলোচনা আরও বিস্তৃত করতে চায় সরকার। তার ভাষায়, “বাংলাদেশে আজ যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই।”
তিনি জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুসারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১২ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত বিবেচনায় বিরোধী পক্ষ থেকে আরও পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। তার মতে, শতাংশের হিসাবে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রায় ২৬ শতাংশ হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী পক্ষ আগামীকালের মধ্যে পাঁচজনের নাম দিলে দ্রুত বিশেষ কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে। এরপর সংবিধান সংশোধন এবং “জুলাই সনদ” সামনে রেখে সরকার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।
সিভি/এম

