বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে শুরু করেছে। চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকাগুলোতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে নেত্রকোনার ভোগাই-কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে, সোমেশ্বরী নদী ৫০ সেন্টিমিটার এবং মগরা নদী ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় জনজীবনে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রমেঘের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি আগামী সোমবার পর্যন্তও বৃষ্টির ধারা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১০৫ মিলিমিটার। এছাড়া ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোনায় ১০১ এবং পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ৪৫ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় বজ্রমেঘের কারণেই এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই বৃষ্টিপাতের ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে, যা কৃষি, যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সিভি/এইচএম

