ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের বড় অংশই উচ্চ সম্পদশালী ও উচ্চশিক্ষিত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের মোট প্রার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কোটিপতি। হিসাব অনুযায়ী, ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য কোটি টাকার বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অস্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে ২৫ জন এবং স্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে ১৪ জন প্রার্থী কোটিপতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপির ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ জনের মধ্যে ৫ জন কোটিপতি। এছাড়া জাগপার একমাত্র প্রার্থীকেও কোটিপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ১৯ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি। শতকরা হিসাবে এই হার ৩৮ দশমিক ৭৮। তবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, যা ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
সংস্থাটি বলছে, ত্রয়োদশ সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের একত্রে বিবেচনা করলে মোট ২৬৯ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি। শতকরা হিসাবে যা ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সম্পদ ও পারিবারিক সম্পদের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে বিশ্লেষণে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচজন নারী প্রার্থীর নিজের নামে থাকা দালান বা ফ্ল্যাটের সংখ্যা তাদের স্বামীর তুলনায় কম।
সাতজনের জমির পরিমাণ কম এবং ১৪ জনের অস্থাবর সম্পদ স্বামীর তুলনায় কম রয়েছে। তবে অধিকাংশ নারী প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ স্বামীর চেয়ে বেশি হওয়ায় বিষয়টিকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে টিআইবি।
সংরক্ষিত আসনের কোটিপতি প্রার্থীদের মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। দুই ধরনের সম্পদ একত্রে হিসাব করলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫২ কোটি টাকা।
বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, অন্তত তিনজন প্রার্থীর নামে বা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থীর নিজের নামেই ৫০২ ভরি স্বর্ণালংকারের তথ্য পাওয়া গেছে।
ঋণের চিত্র বিশ্লেষণ করে টিআইবি জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনো ধরনের ঋণ বা দায়ে জড়িত। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে ঋণগ্রস্ততার হার সমান, যা ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণগ্রস্ততার হার আরও বেশি, যা ৫০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে টিআইবি। সংরক্ষিত আসনের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রার্থী স্নাতকোত্তর বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। অন্যদিকে সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে এই হার ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ স্নাতক, ৪ দশমিক ১ শতাংশ উচ্চমাধ্যমিক পাস, ৪ দশমিক ১ শতাংশ স্বশিক্ষিত এবং ২ দশমিক ১ শতাংশ মাধ্যমিক পাস।
পেশাগত পরিচয়ের দিক থেকে আইনজীবীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট প্রার্থীর ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা, যাদের হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া গৃহিণী ১২ দশমিক ২ শতাংশ, শিক্ষক ১০ দশমিক ২ শতাংশ এবং সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থীর হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ।

