আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তিনি অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল, পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, যা তাকে এবারের পুরস্কারের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুলেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মনোনয়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা মোট ২৮৭টি মনোনয়ন পেয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা রয়েছে। এই বিশাল তালিকা থেকে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হবে, যা সবসময়ই একটি কঠিন ও গভীরভাবে বিশ্লেষণনির্ভর প্রক্রিয়া।
কমিটির নতুন সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন মনোনয়নের বৈচিত্র্য দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, আর সেই কারণে মনোনয়ন তালিকাও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে।
এই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্প একা নন। আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নামও সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু, জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং জলবায়ু আন্দোলনের পরিচিত মুখ গ্রেটা থুনবার্গ।
এছাড়াও উত্তর মেরু অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার জন্য মনোনীত হয়েছেন গ্রিনল্যান্ড-ডেনমার্কের পার্লামেন্ট সদস্য আজা কেমনিটজ এবং মার্কিন সিনেটর লিসা মারকোভস্কি। তাদের মনোনয়ন প্রস্তাব করেছেন নরওয়ের আইনপ্রণেতা লার্স হাল্টব্রেকেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত গোপনীয়। সাধারণত কয়েক দশক পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা হয় না। তবে বিভিন্ন সূত্র ও প্রস্তাবদাতাদের মাধ্যমে কিছু নাম আলোচনায় আসে।
প্রথা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
ট্রাম্পের মনোনয়ন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন নিঃসন্দেহে তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার বাস্তব অবদানও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
তার পক্ষে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিও এই আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে এই সমর্থনকে কেউ দেখছেন কূটনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের একটি অংশ হিসেবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্প এবারের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কমিটির বিশ্লেষণ এবং বৈশ্বিক শান্তিতে কার অবদান সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে তার ওপর।

