ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এই গেজেট জারি করা হয়, যার মাধ্যমে তাদের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ জন নারী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১-দলীয় জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান জানান, আসন বণ্টনের ভিত্তিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে একটি আসনের গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আইনি জটিলতা।
১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র ব্যাংকসংক্রান্ত কারণে বাতিল হওয়ায় তিনি বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, যার যাচাই-বাছাই হবে আগামী ২ মে। এরপরই ওই আসনটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে ৪৯ জন নারী সদস্যের নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এখন জাতীয় সংসদের স্পিকারের মাধ্যমে তাদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হবে। শপথের পর তারা পূর্ণাঙ্গভাবে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা যায়।
একদিকে এটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিফলন, অন্যদিকে সরাসরি ভোটের অভাব প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও তুলতে পারে। তবুও বাস্তবতা হলো, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সংসদে নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত হচ্ছে, যা নীতিনির্ধারণে বৈচিত্র্য আনে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই ৪৯ জন নারী সদস্য সংসদের কার্যক্রমে কী ভূমিকা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

