নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন। আগামী ৩ মে রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ আয়োজন শুরু হয়ে চলবে ৬ মে পর্যন্ত। মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে এ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রস্তাবগুলোতে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজস্ব আদায়, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা বিস্তার, দুর্নীতি দমন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এবং পরে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেবেন। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানের দিকনির্দেশনা নিয়েও সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম দিনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। একই দিনে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকেরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে অর্থনীতি ও উন্নয়ন খাতের নানা বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজস্ব, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এদিন জাতীয় সংসদে স্পিকারের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তৃতীয় দিনে প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা, নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশল নিয়েও আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে। শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। সমাপনী দিনে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারের আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক সংস্কার, সেবার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

