দেশের বৃহত্তম আইনজীবী সংগঠন ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবকটি ২৩ পদেই তারা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাতে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করে। দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে এই ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত নীল প্যানেল এককভাবে জয়ী হয়।
নির্বাচনে জামায়াত-সমর্থিত সবুজ প্যানেল ও জাতীয় নাগরিক পার্টি ঘনিষ্ঠ জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো পদেই জয় পায়নি। ফলে সমিতির নেতৃত্বে সম্পূর্ণভাবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো।
সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া বিপুল ভোটে জয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল কালাম খান বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি, ট্রেজারার, সহসাধারণ সম্পাদক, লাইব্রেরি, কালচারাল, স্পোর্টস, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদকসহ সব পদেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকেন।
কার্যকরী সদস্য পদেও নীল প্যানেল বড় ব্যবধানে জয় পায়। শীর্ষ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীরা কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যান।
অন্যদিকে সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা প্রায় সব পদেই পরাজিত হন। তারা ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, পরাজয়ের পর অভিযোগ তোলা একটি সাধারণ প্রবণতা, তবে ভোটগ্রহণ ও গণনা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ৬৯ জন, অর্থাৎ ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেলের অনুপস্থিতিও এবারের ফলকে প্রভাবিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। অতীতে এই প্যানেল শক্ত অবস্থান থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়নি।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা বার সমিতিতে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং পরে একটি অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে সংগঠনটির নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু একটি আইনজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং দেশের আইনজীবী রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

