দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দ্রুত ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের নীতি চালু করা গেলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ হিসেবে মুক্ত বিনিয়োগ নীতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তার মতে, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে বিদেশে স্থানান্তরিত ও দেশে অপ্রকাশিত অর্থ বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা অর্থনীতিকে চাঙা করতে সহায়ক হবে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনটি একটি প্রস্তাবনাও উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, রাজস্ব ঘাটতি এবং বিনিয়োগ সংকট নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট, ব্যবসায় স্থবিরতা এবং বাজেটে বড় ঘাটতি অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের বৈদেশিক ঋণ শত বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তাদের মতে, বর্তমান কর কাঠামো ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন এবং অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করছেন। এ অবস্থায় বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রস্তাবিত নীতির মধ্যে রয়েছে—নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি, নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ এবং সব খাতে বিনিয়োগের উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ৫ থেকে ৭ শতাংশ করের বিনিময়ে নগদ অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিলে দ্রুত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরে আসতে পারে বলে মত দেওয়া হয়।
তবে করের হার কম রাখতে হবে বলেও জোর দেওয়া হয়েছে। উচ্চ কর আরোপ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেন বক্তারা। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নীতি স্বল্পমেয়াদে তারল্য সংকট কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থ পাচার রোধ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার না হলে টেকসই সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

