দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই মাসে কিছুটা অগ্রগতি হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় হতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বাড়ানো, জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল রোধেও জোরালো পদক্ষেপের কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতেই প্রশাসনে মূল্যায়ন করা হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। জনগণ ও সরকারের মধ্যে সংযোগ রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারপ্রধান অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেশ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যায়। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সম্মেলনে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিচ্ছেন। চার দিনব্যাপী এই আয়োজন আগামী ৬ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রস্তাবের একটি অংশ এবারের আলোচনায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

