ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনায় এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নতুন ধারা শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সড়কে সিসি ক্যামেরা ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে মালিক ও চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর পর্যায়ে যাবে, যার মধ্যে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ব্যবস্থাও রয়েছে।
রোববার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। লাল সংকেত অমান্য করা, নির্ধারিত স্টপ লাইনের বাইরে যানবাহন রাখা, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামায় বাধা সৃষ্টি করার মতো অপরাধগুলো ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকের কাছে ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে জরিমানা পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কেউ হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, এই ডিজিটাল প্রসিকিউশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, অনলাইনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার নামে আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতারণার চেষ্টা হলে দ্রুত থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, প্রশাসনিক নজরদারি এবং জনসচেতনতার ওপর।

