দেশে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বাড়াতে বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত এই প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে অধিকাংশ শুল্ক-কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, দ্রুত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী পরিবহন ছাড়া অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে ১৭ আসনবিশিষ্ট বৈদ্যুতিক বাস আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ বহাল থাকবে। তবে কাস্টমস ডিউটি, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই সুবিধা চলতি অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো এবং নগর পরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক বাস শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করল। এছাড়া পাঁচ টন বা তার বেশি ধারণক্ষমতার ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশে ধীরে ধীরে ডিজেলনির্ভর পরিবহন কমে আসতে পারে এবং জ্বালানি ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে। তবে চার্জিং অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।

