নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব জটিল ছিল না। মানুষ চেয়েছিল নিরাপত্তা, সুশাসন এবং জীবনযাত্রায় কিছু দৃশ্যমান স্বস্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, সরকার পরিবর্তন এবং নির্বাচনের পর নাগরিকদের আশা ছিল—নতুন সংসদ হয়তো তাদের দৈনন্দিন সংকট, ভয়, ব্যয় এবং অনিশ্চয়তার কথা গুরুত্ব দিয়ে তুলবে। কিন্তু বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই ২৫ দিনের অধিবেশন থেকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে কী পেল?
প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র সামনে আসে। এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে ঢাকায় অন্তত ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে রাজধানী ঢাকায় ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্চে ৩৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮টি এবং জানুয়ারিতে ৩৬টি খুনের ঘটনা ঘটে।
শুধু ঢাকার চিত্রই উদ্বেগজনক নয়, সারা দেশের অবস্থাও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি এবং মার্চে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। চলতি মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
এই বাস্তবতার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, সংসদের প্রথম অধিবেশনে নাগরিক নিরাপত্তা কতটা গুরুত্ব পেল? নতুন নির্বাচিত সরকারের সংসদে সাধারণ মানুষের ভয়, উদ্বেগ ও দৈনন্দিন সংকট কি যথেষ্টভাবে আলোচনায় এসেছে?
গত বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২৫ দিনের এই অধিবেশন শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, ওয়াকআউট, রাষ্ট্রপতির ভাষণ, জুলাই সনদ, মুক্তিযুদ্ধ এবং সাংবিধানিক বিতর্কের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সংসদের ভেতরের বিতর্ক সংসদের বাইরেও মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই অধিবেশনকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু আগ্রহ যতটা ছিল, প্রাপ্তির হিসাব কি ততটাই বড়?
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দুই বছর পর বসা এই সংসদকে স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল। কারণ, এটি শুধু নতুন সরকারের সংসদীয় যাত্রা নয়; অনেকের চোখে এটি ছিল নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। ফলে প্রতিটি বিল, প্রতিটি বক্তব্য, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি সংঘাত নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল প্রবল। কিন্তু সংসদীয় আলোচনায় জনগণের জীবনযাপনের বাস্তব সমস্যা কতটা জায়গা পেয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।
প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে ওয়াকআউট করেন। অন্যদিকে সরকারি দল রাষ্ট্রপতির ভাষণকে সাংবিধানিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। এই বিতর্ক অধিবেশনের শুরুর সুর নির্ধারণ করে দেয়। এরপর অধিবেশনের বড় অংশজুড়ে রাজনৈতিক অবস্থান, ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা এবং জুলাই সনদকে ঘিরে তর্ক-বিতর্ক প্রাধান্য পায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল জুলাই সনদ। এই সনদ ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। কখনও তা যুক্তিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আবার কখনও সংসদে হট্টগোলের পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
সরকারি দলের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জুলাই আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে চাইছে। অন্যদিকে বিরোধী দল দাবি করে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। এই বিতর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, যে সনদে তারা স্বাক্ষর করেছে এবং সরকারও স্বাক্ষর করেছে, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনির জুলাই সনদ নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তিনি অধিবেশনের শুরু থেকেই জুলাই সনদ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক হচ্ছে বলে মন্তব্য করলে বিরোধীদলীয় সদস্যরা এর প্রতিবাদ জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য সর্বদলীয় কমিটি গঠনের কথাও তিনি জানান।
সরকারি দলের দৃষ্টিতে এই অধিবেশন ছিল সফল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৭ বছর পরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের এই প্রথম অধিবেশন ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও কার্যকর। তার দাবি, এই সংসদ আইন প্রণয়নে ইতিহাসের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এবং সবচেয়ে বেশি আইন পাস হয়েছে এই অধিবেশনে।
তবে বিরোধী দল ও অনেক পর্যবেক্ষকের মূল্যায়ন আলাদা। তাদের মতে, সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক বেশি হলেও মানুষের মৌলিক সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক ও কার্যকর আলোচনা তুলনামূলক কম হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের মতো বিষয়ে সাধারণ মানুষ যে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আশা করেছিল, তা খুব বেশি দৃশ্যমান হয়নি।
সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়েও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু থেকেই মতপার্থক্য দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম অধিবেশনেই স্পষ্ট হয়েছে যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এখনও পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়নি। এই মতভেদ ভবিষ্যতের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিবেশনের সরকারি অংশে আইন প্রণয়নের গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন বিল পাস হয়েছে, প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীরা উত্তর দিয়েছেন, সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইন পাসের সংখ্যা বেশি হলেই কি সংসদ জনমুখী হয়ে ওঠে? নাকি আইন প্রণয়নের পাশাপাশি প্রয়োজন মানুষের জীবনের সরাসরি সংকট নিয়ে বাস্তবমুখী আলোচনা?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সংসদের বাইরের বাংলাদেশকে দেখতে হয়। অধিবেশন চলাকালেই দেশের সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে ভুগেছে। বিভিন্ন স্থানে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। এতে মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকটও একই সঙ্গে তীব্র ছিল। সরকারি লাইনের গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবার সিলিন্ডার গ্যাসের দিকে ঝুঁকেছে। কিন্তু সেখানেও দেখা গেছে উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকট।
১২ কেজির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির চিত্রই মানুষের ভোগান্তির মাত্রা বোঝাতে যথেষ্ট। গত বছরের নভেম্বরে ১২ কেজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ১২১৫ টাকা। চলতি মে মাসে সেই সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বাড়তি ব্যয় সরাসরি মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং স্বল্প আয়ের মানুষের সংসারে চাপ তৈরি করেছে। অথচ সংসদের আলোচনায় এই জনভোগান্তি প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি বলে অনেকের অভিযোগ।
একাধিক সংবাদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংসদে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মূলত রাজনৈতিক ইস্যু ও ঐতিহাসিক অবস্থান। রাষ্ট্রপতির ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদ এবং রাজনৈতিক দায়দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সমস্যা নিয়ে সুসংগঠিত প্রস্তাব, ধারাবাহিক আলোচনা বা তাৎক্ষণিক কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল বলে অনেকে মনে করছেন।
নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে জাতির প্রত্যাশা ছিল অনেক। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদ থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিক সমস্যার কার্যকর সমাধান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে গণভোট, জুলাই সনদ এবং ২৪ আন্দোলন নিয়ে আলোচনা বেশি জোরালো ছিল। তবে তিনি এটাও বলেছেন, সংসদ নেতা ও বিএনপি মহাসচিবের সমাপনী বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা আগামী সময়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে নাগরিকরা আশা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে, অধিবেশন পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাবে না। কারণ সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিরোধী দল জবাবদিহির পরিবেশ তৈরিতে চাপ দিয়েছে। সরকারি দল কমিটি গঠন ও সহযোগিতার কথা বলেছে। এই দিকগুলো ইতিবাচক। তবে এগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আলমের মতে, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই বিতর্ক অর্থবহ হতে হবে। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর জন্য নয়, জনগণের সমস্যার সমাধানের পথ দেখানোর জন্য বিতর্ক হওয়া জরুরি।
এখানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন সবচেয়ে জোরালো হয়ে ওঠে। সংসদের প্রথম অধিবেশন কি অর্থবহ ছিল? নিরাপত্তা, সুশাসন, উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মৌলিক দাবিগুলোতে কি বাস্তব অগ্রগতির কোনো বার্তা পাওয়া গেছে? অনেক নাগরিক মনে করছেন, অধিবেশনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল, আইন প্রণয়নের গতি ছিল, কিন্তু জনজীবনের জরুরি সংকট নিয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ ছিল না।
অন্যদিকে, অধিবেশনের সংখ্যাগত চিত্র দেখলে সংসদীয় কার্যক্রমকে সক্রিয় বলা যায়। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ দিনের এই অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। এর বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়। শেষ দিনের দুটি বিলসহ সর্বমোট ৯৪টি বিল পাসের মাধ্যমে অধিবেশন শেষ হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা বাসসের তথ্য অনুসারে, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে তিনি ৩৫টির উত্তর দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান সংসদের আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততা বোঝায়। কিন্তু সংসদের প্রকৃত সাফল্য শুধু কতটি বিল পাস হলো বা কতটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। আসল প্রশ্ন হলো, এসব কার্যক্রম মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে। আইন পাসের পর তা বাস্তবায়ন হবে কি না, জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কি না, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে মানুষ স্বস্তি পাবে কি না—এসব প্রশ্নই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন তাই একদিকে আশার, অন্যদিকে সংশয়ের। আশা এই কারণে যে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংসদে প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়েছে, আইন প্রণয়নের কার্যক্রম এগিয়েছে এবং সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংশয় এই কারণে যে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে জরুরি চাওয়া—নিরাপত্তা, সুশাসন ও জীবনযাত্রার স্বস্তি—আলোচনার কেন্দ্রে যথেষ্টভাবে আসেনি।
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্পিকারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংসদ যেন মানুষের প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে কাজ করে। এই স্মরণ করিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংসদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর বিতর্কের জায়গা নয়; এটি জনগণের আশা, অধিকার ও সমস্যার প্রতিনিধিত্ব করার সর্বোচ্চ মঞ্চ।
প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে, কিন্তু জনতার অপেক্ষা শেষ হয়নি। মানুষ এখন দেখতে চায়, সংসদের বিতর্ক বাস্তব সিদ্ধান্তে রূপ নেয় কি না। জুলাই সনদ, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের দাম, গ্যাসের সংকট, হত্যাকাণ্ডের ভয়, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি।
জাতির কাছে এই অধিবেশনের বার্তা তাই মিশ্র। সংসদ সক্রিয় হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরীক্ষা এখনো বাকি। আগামী অধিবেশনগুলোতে যদি নাগরিক নিরাপত্তা, সুশাসন, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্য এবং উন্নয়নকে আলোচনার কেন্দ্রে আনা যায়, তাহলে এই প্রথম অধিবেশনকে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যাবে। আর যদি রাজনৈতিক বিতর্কই মূল আসন দখল করে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের হতাশা আরও বাড়বে।
শেষ পর্যন্ত সংসদের সফলতা নির্ভর করবে একটি সহজ প্রশ্নের উত্তরে—এই সংসদ কি মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যার পাশে দাঁড়াতে পারবে?
সিভি/এইচএম

