দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময় ও পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ইস্যু করা অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো ফেরত আসেনি, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। বিশেষ করে ২০০৯ সালের আগের এবং ২০২৪ সালের পরের সময়ে ইস্যু করা লাইসেন্সের অস্ত্রগুলো দ্রুত ফেরত আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া অস্ত্র লাইসেন্সগুলো আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল বা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি জানান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা নিয়েও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব মামলা যাচাইয়ের জন্য জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং তা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত হবে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক, নৌ ও রেলপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো, জাল টাকা প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌপথে যাত্রী চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে গ্রামীণ পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করে নষ্ট হওয়া রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক লাইসেন্স অস্ত্র ফেরত না আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো উদ্ধার ও কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

