প্রায় আড়াই মাস পর আবারও দেশে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) বড় একটি চালান। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড নিয়ে যাত্রা করা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ আজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি নোঙর করেই শুরু হবে খালাস কার্যক্রম।
জ্বালানি খাতে এই চালান ঘিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হওয়ার পথে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই ক্রুড অয়েল পৌঁছালে ৭ বা ৮ মে থেকে শোধনাগারটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
এর আগে কাঁচামালের সংকটে ১২ এপ্রিল ইআরএলের মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে উৎপাদন সচল রাখতে আরও ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়াও চলছে। ইআরএল দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু কম সরবরাহ করে থাকে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ওই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। বাংলাদেশের আমদানি করা ক্রুড অয়েলও এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ চালান দেশে আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর পরিস্থিতির কারণে নতুন কোনো চালান আনা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যে ১ লাখ টন ক্রুড নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে পড়ে ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার। পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড বোঝাই করে ‘এমটি নিনেমিয়া’ বাংলাদেশে রওনা দেয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ট্যাংকারটি বুধবার বেলা ১১টার দিকে কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। এরপর বহির্নোঙরেই ছোট জাহাজের মাধ্যমে (লাইটারিং) তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ‘এমটি ফসিল’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ১ লাখ টন ক্রুড লোড করা হবে, যা ২০–২১ মে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মে মাসের শেষ অথবা জুনের শুরুতে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড আনার প্রস্তুতিও চলছে।
ইআরএলের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, ক্রুড অয়েল ট্যাংকে পৌঁছানোর পর ৭ মে বা তার পরদিন থেকেই প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কাঁচামাল সংকটে চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইআরএল স্বাভাবিকভাবে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড পরিশোধন করে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি ও উপজাত উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ডিজেলের অংশ প্রায় ৪৫ শতাংশ।

