তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ আহ্বান জানান।
দুই দেশের বৈঠকে শুধু তিস্তা নয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা ও বেইজিং সম্পর্ককে আরও গভীর করতে একমত হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি ও পানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ, ভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় চীনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা।
এই সফর ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রথম চীন সফর। চীনের আমন্ত্রণে তিনি মঙ্গলবার (৫ মে) বেইজিং সফরে যান এবং তিন দিনের সফর ৭ মে পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়। পাশাপাশি শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যখাত, পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে যৌথ কাজের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সফল সূচনারও প্রশংসা করেছে।
দুই দেশ তাদের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উচ্চপর্যায়ের সফর, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানায়। ঢাকা স্পষ্টভাবে জানায়, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সরকারই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। এর বিপরীতে চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। উভয় পক্ষ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীন ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের এই ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সিভি/এইচএম

