আইন পেশার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সমাজের পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছেন এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কেউ আইনি আশ্রয় নিলে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। এরপর নিজে এবং চক্রের সদস্যদের সক্রিয় করে শুরু হয় ধারাবাহিক তথ্য সন্ত্রাস, যা সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। এরপর থেকেই নতুন করে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ব্যারিস্টার সারোয়ার—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিতর্ক:
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক লাখ দুই হাজার একর জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই পরিমাণের সঙ্গে দেশের রাজধানী ঢাকার আয়তনের তুলনা করে তা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন প্রায় ৩০৬.৪ বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ একর। আর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ৮৮ হাজার ৯০০ একর। ফলে উল্লিখিত দাবির পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সমালোচকদের বক্তব্য, আইন পেশায় থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন তথ্য প্রচার সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
মামলার প্রেক্ষাপট:
২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার আদালতে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা, অকথ্য ও মানহানিকর বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব প্রচারের কারণে বাদী, তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে সামাজিকভাবে অপমানিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে তাদের আর্থিক, ব্যবসায়িক এবং মানসিক ক্ষতিও হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বড় ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের ইতিহাস তুলে ধরে মামলায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৭ সালে আবাসন খাত দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে খাদ্যপণ্য, কাগজ, সিমেন্ট, এলপিজি, শিপিং, স্বর্ণ ব্যবসা, সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলসহ একাধিক খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মামলার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ব্যারিস্টার সারোয়ার একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ হয়নি এবং তা “ধামাচাপা” দেওয়া হয়েছে—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। তার ওই পোস্টকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৫ সেনা কর্মকর্তার বিচারসংক্রান্ত একটি মামলায় আইনজীবী প্যানেলের অংশ ছিলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পূর্বের অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও ওঠে এবং বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর তিনি ওই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান।
সব মিলিয়ে ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য সন্ত্রাস, মানহানিকর প্রচারণা এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

