রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। নিহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে এই আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য সাইন মারমার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার আবেদনে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত বছরের ২১ জুলাই ঘটে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনা। ওই দিন দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বিমানটি বিদ্যালয়ের একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিলেন শিক্ষার্থী। এছাড়া যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, কারিগরি ত্রুটির কারণেই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। দুর্ঘটনার আগে পাইলট ইজেক্ট করতে সক্ষম হলেও পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ফলে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায় এবং ঘটনাটি দেশজুড়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনার পর যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক উড্ডয়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ তখনই বলেছিলেন, পুরোনো প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহারে ঝুঁকি এবং জনবহুল এলাকার ওপর দিয়ে উড্ডয়ন—দুই বিষয়ই নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আইনজীবীরা বলছেন, আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করলে ঘটনাটির দায়, অবহেলা এবং নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিচারিক অনুসন্ধানের পথ খুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে আসবে।

