দেশের দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে অদূর ভবিষ্যতে পুনর্গঠন করা উচিত।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বৈঠকে দুদকের নেতৃত্ব সংকটের নির্দিষ্ট বিষয়টি আলোচনায় না এলেও, সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার ও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে কেবল নীতি ঘোষণা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, বর্তমান কাঠামোতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পুনর্গঠনের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার, সুশাসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে টিআইবির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৮ সালের আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সম্মেলন বাংলাদেশে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।
তাঁর মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলে তা দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করবে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরও সুস্পষ্টভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদক নিয়ে পুনর্গঠনের মতো মন্তব্য দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিতও বহন করছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি দমনকে কার্যকর করতে হলে কেবল আইন নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

