আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে টানা ৭ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হবে ঈদের সরকারি ছুটি, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবার দীর্ঘ সময়ের অবকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২৩ মে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, ঈদকে ঘিরে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় মানুষের বাড়ি ফেরা। বিশেষ করে রাজধানী ও বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ একসঙ্গে নিজ নিজ জেলায় যাওয়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে তীব্র চাপ তৈরি হয়। অনেক সময় দীর্ঘ যানজট, টিকিট সংকট এবং যাত্রাপথের ভোগান্তি ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এবার আগেভাগে দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা ছুটি থাকায় মানুষ পর্যায়ক্রমে যাত্রা করতে পারবে। এতে একদিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে কর্মজীবী মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন, যা সামাজিক ও মানসিক দিক থেকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহায় রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কোরবানিকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্য, পশুর হাট, পরিবহন ও পর্যটন খাতেও বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়। দীর্ঘ ছুটি এসব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে সরকারি সেবার গতি সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তবে সরকার ছুটির আগে ও পরে কার্যক্রম সচল রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল আজহায় টানা ৭ দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী, চাকরিজীবী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষদের কাছে এটি ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

