শিক্ষকদের পদোন্নতি জটিলতা ঘিরে টানা আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি এবার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও কক্ষে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেয়।
সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন বিভাগ ও প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে শিক্ষকদের কয়েকটি দল বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে তালা লাগিয়ে দেয় এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ ত্যাগ করতে বলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশও শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় প্রশাসন ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায়ও দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটেন।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধাপে ধাপে তীব্র আকার ধারণ করে। প্রথমে কর্মবিরতি, পরে শাটডাউন এবং সর্বশেষ সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এতে সেশনজট বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সমাধানে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম দাবি করেন, সিন্ডিকেট সভায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এরপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রাখার অনুরোধও করেন তিনি।
বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। চলমান অচলাবস্থার কারণে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

