ঢাকায় গত এপ্রিল মাসে এক লাখেরও বেশি গ্রাহককে স্মার্টফোন কেনার জন্য ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পামপে লিমিটেড। এই সময়সীমায় প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৯৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ স্মার্টফোন কেনার জন্য বিতরণ করেছে।
কম আয়ের মানুষের কাছে স্মার্টফোন এখনো সহজলভ্য নয়। অনেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্মার্টফোন কিনতে পারেন না। এই বাস্তবতায় বাজারে কিস্তি সুবিধায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ তৈরি করছে পামপে।
প্রতিষ্ঠানটির এপ্রিল মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ নারী। এছাড়া ৫০ শতাংশ গ্রাহক প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছেন। ডিজিটাল সেবার ব্যবহারেও উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা গেছে। প্রায় ৭১ শতাংশ গ্রাহক স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি ৩৩ শতাংশ গ্রাহক শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি পরিশোধে ফোনটি ব্যবহার করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৪৪ হাজার ২৭৭ জন গ্রাহক গ্রামীণ এলাকা থেকে এবং ৫২ হাজার ৩২৮ জন শহর এলাকা থেকে এই সুবিধা নিয়েছেন। মোট ক্রয়ের মধ্যে গ্রাহকেরা গড়ে ১৮ শতাংশ অর্থ আগাম পরিশোধ করে স্মার্টফোন কিনেছেন। সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে। এই শ্রেণিতে প্রায় ৬৪ হাজার গ্রাহককে ১৪৭ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ পায়। এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে মাসভিত্তিক ঋণ বিতরণের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিচ্ছে। পামপে লিমিটেড–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুন জেং ইথান লিখিত বক্তব্যে জানান, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক সমাজে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষ, নারী এবং প্রথমবারের ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে তারা “কিনুন এখন, পরিশোধ করুন পরে” ধরনের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে।
স্মার্টফোন কেনার প্রক্রিয়া:
বর্তমানে দেশে তিনটি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে এই ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো হলো টেকনো, ইনফিনিক্স ও আইটেল। প্রায় ৫ হাজার বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এই সেবা চালু রয়েছে। গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একজন গ্যারান্টারের পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। পাশাপাশি আয় বা আর্থিক সক্ষমতার তথ্যও দিতে হয়। ব্যবসায়ী হলে ব্যবসার আর্থিক তথ্য দিতে হয়।
ক্রয়ের সময় মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ আগাম পরিশোধ করতে হয়। বাকি অর্থ ৬ বা ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকে। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রথমে বার্তা পাঠানো হয়। এরপরও পরিশোধ না হলে ধাপে ধাপে ফোনের সেবা সীমিত হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তারা প্রায় ৪ কোটি ব্যবহারকারী এবং ১০ লাখ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। পামপে বর্তমানে নাইজেরিয়া, ঘানা, তানজানিয়া ও বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশে সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

