রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক—
খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আদেশে বলা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ২ (খ)-এর (আ) অনুযায়ী তার কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪-এর (৬) মোতাবেক তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন।
তবে খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের দাবি, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মো. রুবেল বলেন, সেলিনা বেগমের অসহযোগিতা ও অবহেলার কারণে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও খেলতে না পেরে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, “তিনি আমাদের কাগজপত্রে সিল দেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা দেননি। তিনি নিজেও যাননি বা দায়িত্বশীল কাউকে পাঠাননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ ছিল। উল্টো শারীরিক শিক্ষা দপ্তর থেকে ঢাবিকে জানানো হয়েছে, আমাদের মধ্যে অনেকে শিক্ষার্থী নন, বিকেএসপির খেলোয়াড় আছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও খেলতে পারিনি। তাকে আর কোনোভাবেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, সেলিনা বেগম বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। কখনো তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন, আবার কখনো মদপান, প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও ধূমপানের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তার একাধিক অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লালমনিরহাটের এক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে আটকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই কর্মকর্তার দায়ের করা সাইবার ক্রাইম মামলায় আদালত গত ২৯ জানুয়ারি সেলিনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
তিনি ২০১৮ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সাবেক ওই রেজিস্ট্রার সাময়িক শাস্তিও পেয়েছিলেন।
এছাড়া কয়েক বছর আগে সেলিনা বেগমের দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলায় বরিশালের এক পুলিশ সুপার চাকরিচ্যুত হন। অন্যদিকে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর কমলচন্দ্র হাওলাদার মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন (মামলা নম্বর-১/১৭)।
উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

