পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—ঈদের দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এবারের ঈদে স্বস্তির বৃষ্টি খুব বেশি মিলবে না। বরং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।
বর্তমানে দেশের অন্তত ১১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর। এসব অঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে সকাল থেকেই তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঈদের সময়ও এই পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় গরম আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। বরং ঢাকা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ঈদের দিন বাইরে বের হওয়া মানুষকে গরমের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে দেশের সব অঞ্চলের চিত্র একরকম নয়। আবহাওয়া অফিস বলছে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় ঈদের দিন বা তার আশপাশের সময়ে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকতে পারে। তবে ২৬ মে থেকে আবারও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে গরম আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে জলীয়বাষ্পের প্রবাহ এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় দেশের বড় অংশে এখনো গরমের আধিপত্য বজায় রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হচ্ছে, অন্যদিকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ায় ভ্যাপসা গরম মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে যারা দূরপাল্লার যাত্রা করবেন কিংবা কোরবানির প্রস্তুতিতে বাইরে কাজ করবেন, তাদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

