দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে, ঈদের ছুটির মধ্যেও সেখানে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের মতো অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার রোধে ঈদের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভিড়পূর্ণ স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাস, ট্রেন কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের সময় আক্রান্ত শিশু অন্যদের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ঈদের ছুটিতে মানুষের অবাধ চলাচল ও মেলামেশার কারণে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই পরিবারগুলোকে সচেতন থাকতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুদের যতটা সম্ভব আলাদা রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি কিংবা কাছাকাছি সংস্পর্শের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। ফলে ঈদকে কেন্দ্র করে গণপরিবহন ও জনসমাগমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঈদের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

