শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির বিচার কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
রোববার ঢাকার মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহার পর আদালতের নির্ধারিত অবকাশকালীন ছুটি থাকলেও ওই ছুটি বাতিল করে শিশু ট্রাইব্যুনাল খোলা রাখার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হয়নি।
এদিকে মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে আসামিদের হাজির করা হয়েছে আদালতের হাজতখানায়। অভিযোগ গঠনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত বিচার শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত কয়েক দিনের আদালত কার্যক্রমে প্রধান আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপন আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শিশুটি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে তাকে হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গোপন ও প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আইনজীবীরা বলছেন, মামলাটির গুরুত্ব ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ছুটি বাতিলের বিষয়টি কার্যকর হলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

