ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল রাঙামাটি ও সাজেক যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু ছুটে এসেছেন পাহাড়, হ্রদ আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই হ্রদ এবং রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঈদের তৃতীয় দিনে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ঝুলন্ত সেতু এলাকায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবার, বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষদের অনেককে ছবি তুলতে, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং হ্রদে নৌভ্রমণ করতে দেখা গেছে।
রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণের জনপ্রিয়তা এবারও ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যটকদের জন্য পরিচালিত অসংখ্য নৌযান দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছে। হ্রদের শান্ত জলরাশি আর চারপাশের সবুজ পাহাড় পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
শুধু ঝুলন্ত সেতুই নয়, কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, অবকাশযাপন কেন্দ্র ও রিসোর্টেও বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। অনেক পর্যটক পুরো ছুটির সময়টুকু পাহাড়ি পরিবেশে কাটানোর জন্য আগেভাগেই থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।
ফেনী থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুবার রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর ছবি দেখলেও বাস্তবে এসে দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। প্রকৃতির সৌন্দর্য তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মুগ্ধ করেছে।
ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, বর্ষাকালে এবং শুষ্ক মৌসুমে রাঙামাটির সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন হলেও দুই সময়ই এই অঞ্চল অসাধারণ লাগে। হ্রদের পানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কোনো ঘাটতি নেই।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এ বছর পর্যটকের সংখ্যা গত কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নৌভ্রমণ, পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ এবং পরিবার নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য রাঙামাটি এখন অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের শীর্ষ পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটি সাজেক ভ্যালিতেও দেখা গেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের তৃতীয় দিনে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনের তুলনায় এ সংখ্যা আরও বেশি।
সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ মালিকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পর্যটকদের চাহিদা এতটাই বেশি যে অধিকাংশ আবাসন আগেই বুকিং হয়ে গেছে। এলাকায় থাকা প্রায় ১২৫টি রিসোর্ট ও কটেজে আসন খালি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের মতো বড় ছুটির সময়গুলো শুধু বিনোদনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌযান, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ এ সময় অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে সাজেক ও রাঙামাটি আবারও প্রমাণ করেছে কেন এই অঞ্চলগুলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। পাহাড়, মেঘ, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির অনন্য সমন্বয় পর্যটকদের কাছে এখনও সমানভাবে আকর্ষণীয়, আর সেই আকর্ষণেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ছুটে যাচ্ছেন এই সৌন্দর্যের ঠিকানায়।

