জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই নির্বাচনকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক অভিনন্দনবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. খলিলুর রহমানের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের ফলেই বাংলাদেশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ফোরামের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন দায়িত্বে ড. খলিলুর রহমান দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট ও বহুপাক্ষিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংলাপ এবং অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি ভোট পেয়ে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে এই ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে তিনি এক বছরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর একটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, টেকসই অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যেখানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু সংকট একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে, সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদে একজন বাংলাদেশির নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে আরও প্রভাবশালী করে তুলবে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মর্যাদাপূর্ণ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ড. খলিলুর রহমানের এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনীতি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার এবং বৈশ্বিক বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রভাব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পথও আরও সুগম করতে পারে।

