আগামী ১ জুলাই থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আর মাত্র কয়েক দিন পরই জাতীয় বাজেট ঘোষণা। এমন সময় কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।
সরকারি চাকরিজীবীদের অভিযোগ, পে স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত যত তথ্য সামনে এসেছে, তার প্রায় সবই এসেছে গণমাধ্যমের মাধ্যমে। সরকারের মন্ত্রী-এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা পে কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতি আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দেখা গেছে বলে তারা জানান। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—আসলে কি ১ জুলাই থেকেই পে স্কেল কার্যকর হচ্ছে? হলে তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে—এই নিয়েও রয়েছে নানা ধোঁয়াশা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে নিয়মিত ব্রিফিং হলেও আসন্ন পে স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় বা অর্থসচিবের পক্ষ থেকেও আগের মতো কোনো ঘোষণা আসেনি। তার মতে, এই নীরবতার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আসলেই কি পে স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর এই পে স্কেল নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশন এবং প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশা, কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে এবং দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে তারা প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
গত রবিবার আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে বেতনে বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী তিন ধাপে তিন বছরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে সংগঠনটির মতে, আগের পে স্কেলগুলোর আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা কার্যকর ছিল এবং দুই ধাপে বাস্তবায়নের সময় প্রথম ধাপে শতভাগ মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে সব ভাতা কার্যকর করা হতো।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো তিনটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে পারেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮–২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।
এদিকে জানা গেছে, আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেদিন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। ওই দিনই পে স্কেলে বরাদ্দ নিয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

