বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমানভাবে রাজনীতি করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কাছেই নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা থাকা উচিত এবং তারাই যোগ্য ব্যক্তিদের বেছে নেবে।
আজ বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সব মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস। গণতন্ত্র, অধিকার আদায় এবং কৃষক-ছাত্র আন্দোলনের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে এ এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীরদের স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে তাঁর দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও চাপের মুখে ছিলেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখনো তাদের স্মৃতিতে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলনই নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের পর তাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বলপ্রয়োগ বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হলে কাজের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। জনগণ উন্নয়ন ও কাজের মূল্যায়ন করেই বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

