নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হয়ে আসেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তার মুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন। এর আগে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করে মুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে আদালতের পাঠানো জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এক বছরের বেশি সময় পর কারামুক্তি
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসভবন থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার গ্রেপ্তার নিয়ে সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ। এছাড়া গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগেও একটি মামলা করা হয়েছিল।
মামলার সংখ্যা নিয়ে আলোচনা
সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে ৯টি হত্যা মামলা, দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং একটি পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত মামলা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আইভীর মামলাগুলো ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম
সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। স্থানীয় সরকারে তার ভূমিকা এবং বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষের কাছেই আলোচিত ছিলেন।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে তার ভূমিকা জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
সামনে কী?
আইভীর মুক্তির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে কত দ্রুত ফিরবেন, চলমান মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে—এসব প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে।
তবে আইনি প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে জামিনে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তি শুধু একটি আইনি ঘটনা নয়, বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি নতুন রাজনৈতিক আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

