দেশের অন্যতম বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. ওয়াছিম জাব্বার। বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদে যোগ দেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দার।
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসছেন ওয়াছিম জাব্বার। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারে তিনি ৩২ বছরেরও বেশি সময় কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
আইইউবিতে যোগদানের আগে তিনি ইতালির তুরিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে ডেপুটি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল তদারকি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
সরকারি চাকরি জীবনে তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা পরিচালক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এক্সিকিউটিভ এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই থেকে প্রকিউরমেন্ট ও সাপ্লাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিপ্লোমা, অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা এবং প্রফেশনাল ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন ওয়াছিম জাব্বার। ২০১৭ সাল থেকে তিনি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করে আসছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারি প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আইইউবির আর্থিক পরিকল্পনা, সুশাসন এবং কৌশলগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উচ্চশিক্ষা খাতে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করছেন তারা।

